স্টক মার্কেটের অস্থিরতা মোকাবিলার ট্রেডারের গাইড | Deriv Blog

VIX অন্তর্দৃষ্টি, অভিযোজিত কৌশল এবং স্টক মার্কেটের অস্থিরতা সম্পর্কে গভীর ধারণার মাধ্যমে ২০২৪ সালের ট্রেডিং পরিবেশ কীভাবে মোকাবিলা করবেন।

ডেরিভ ডেস্ক · ৩ জানুয়ারি, ২০২৪ · 5 মিনিট পড়া

Share

স্টক মার্কেট তার উত্থান-পতনের জন্য পরিচিত, আর এই ওঠানামা বুঝতে পারা এবং মোকাবিলা করা ট্রেডারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

এই বিস্তৃত গাইডে আমরা স্টক মার্কেটের অস্থিরতার ধারণা, এর কারণ এবং ট্রেডিং কৌশলের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব। ক্রমাগত পরিবর্তনশীল মার্কেট পরিবেশে পথ চলতে সাহায্য করার জন্য আমরা ব্যবহারিক অন্তর্দৃষ্টি ও কৌশলও তুলে ধরব।

স্টক মার্কেটের অস্থিরতা কী?

স্টক মার্কেটের অস্থিরতা হলো স্টক মার্কেটের সামগ্রিক মূল্য কতটা ওপরে-নিচে ওঠানামা করে তার একটি পরিমাপ। এটি পৃথক স্টকের অস্থিরতাকেও বোঝাতে পারে। অস্থিরতা সাধারণত স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন নামক পরিসংখ্যানগত পরিমাপ দিয়ে হিসাব করা হয়, যা কোনো অ্যাসেটের দাম তার গড় দাম থেকে কতটা বিচ্যুত হয় তা নির্দেশ করে।

অনিশ্চয়তা সৃষ্টিকারী বাইরের ঘটনাগুলো প্রায়ই স্টক মার্কেটের অস্থিরতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, Covid-19 মহামারির শুরুর দিকে স্টক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল, যেখানে প্রধান স্টক সূচকগুলো প্রতিদিন ৫%-এর বেশি ওঠানামা করেছিল। এই অনিশ্চয়তার ফলে ট্রেডাররা অজানা পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতে গিয়ে তীব্র কেনাবেচায় মেতে উঠেছিল।

২০২৩ সাল এনেছে কিছু বিশেষ চ্যালেঞ্জ। S&P 500 এবং Nasdaq-এর উল্লেখযোগ্য পতন​​​​, সেইসঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি এবং Federal Reserve-এর কঠোর মুদ্রানীতির প্রেক্ষাপটে​​​​, মার্কেটের গতিপ্রকৃতি বোঝা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। 

মনে রাখা জরুরি যে অস্থিরতা স্টকের দাম কোন দিকে যাচ্ছে তা পরিমাপ করে না। বরং এটি দামের ওঠানামার মাত্রা পরিমাপ করে। অস্থিরতাকে স্বল্পমেয়াদি অনিশ্চয়তার একটি পরিমাপ হিসেবে ভাবা যায়।

অস্থিরতার ধরন

অস্থিরতার দুটি প্রধান ধরন রয়েছে: ঐতিহাসিক অস্থিরতা এবং ইমপ্লাইড অস্থিরতা।

১. ঐতিহাসিক অস্থিরতা: ঐতিহাসিক অস্থিরতা হলো অতীতে কোনো অ্যাসেট কতটা অস্থির ছিল তার পরিমাপ। এটি নির্দিষ্ট সময়কালে কোনো অ্যাসেটের দাম কতটা ওঠানামা করেছে সে বিষয়ে ধারণা দেয়। ঐতিহাসিক অস্থিরতা ট্রেডারদের অতীত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের দামের সম্ভাব্য পরিসর বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

২. ইমপ্লাইড অস্থিরতা: ইমপ্লাইড অস্থিরতা এমন একটি মেট্রিক যা ভবিষ্যতে কোনো অ্যাসেট কতটা অস্থির হবে বলে ট্রেডাররা আশা করেন তা নির্দেশ করে। এটিপুট এবং কল অপশনের দাম থেকে নির্ণয় করা হয়। ইমপ্লাইড অস্থিরতা প্রায়ই অপশন প্রাইসিং মডেলে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি ভবিষ্যতের দামের গতিবিধি নিয়ে মার্কেটের প্রত্যাশা নির্ধারণে সাহায্য করে।

স্টক মার্কেটের অস্থিরতা আমরা কীভাবে পরিমাপ করি?

স্টক মার্কেটের অস্থিরতা পরিমাপের কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে পৃথক স্টক এবং বৃহত্তর মার্কেট সূচকের জন্য নির্দিষ্ট মেট্রিকও অন্তর্ভুক্ত।

১. বিটা: বিটা এমন একটি মেট্রিক যা S&P 500-এর মতো কোনো বেঞ্চমার্ক সূচকের তুলনায় কোনো স্টকের ঐতিহাসিক অস্থিরতা পরিমাপ করে। একের বেশি বিটা নির্দেশ করে যে কোনো স্টক ঐতিহাসিকভাবে বেঞ্চমার্ক সূচকের চেয়ে বেশি নড়েছে। একের কম বিটা বোঝায় যে স্টকটি সামগ্রিক মার্কেটের গতিবিধির প্রতি কম প্রতিক্রিয়াশীল।

২০০৩ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত Daily Index Comparison চার্ট
সূত্র: Deriv; তথ্য অভিযোজিত Stooq.com এবং cboe.com
থেকে

২. VIX (Volatility Index): VIX, যা ফিয়ার গেজ নামেও পরিচিত, আগামী ৩০ দিনে স্টক মার্কেটের প্রত্যাশিত অস্থিরতার একটি পরিমাপ। VIX Chicago Board Options Exchange (CBOE) হিসাব করে এবং প্রায়ই মার্কেট সেন্টিমেন্টের সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। VIX-এর উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি তীব্র উদ্বেগ এবং স্টকের দামে বড় ধরনের ওঠানামার প্রত্যাশার ইঙ্গিত দিতে পারে।

অস্থিরতাকে প্রভাবিত করে এমন কারণ

স্টক মার্কেটের অস্থিরতা ক্ষুদ্র ও বৃহৎ—উভয় ধরনের অর্থনৈতিক কারণের সম্মিলিত প্রভাবে প্রভাবিত হতে পারে। এই কারণগুলো বুঝতে পারলে ট্রেডাররা অস্থিরতা বৃদ্ধির সময়কাল আগেভাগে অনুমান করতে এবং মোকাবিলা করতে পারেন।

১. সামষ্টিক অর্থনৈতিক কারণ: সামষ্টিক অর্থনৈতিক কারণ বলতে সেইসব বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে বোঝায় যা সামগ্রিকভাবে স্টক মার্কেটকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • শক এবং অনিশ্চয়তা: অর্থনৈতিক মন্দা, নীতিগত পরিবর্তন বা বৈশ্বিক সংকটের মতো ঘটনা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এবং অস্থিরতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • মুদ্রানীতি: সুদের হার, অর্থ সরবরাহ এবং মুদ্রাস্ফীতির পরিবর্তন মার্কেটের অস্থিরতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনা: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নির্বাচন বা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা মার্কেটে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। 

২. ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক কারণ: ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক কারণ নির্দিষ্ট কোম্পানি, শিল্প বা খাতের সাথে সম্পর্কিত। এই কারণগুলো পৃথক স্টক বা খাতের অস্থিরতাকে প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণ:

  • কোম্পানি-সংক্রান্ত খবর: আয়ের প্রতিবেদন, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ, বা ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন কোনো স্টকের অস্থিরতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • শিল্প-নির্দিষ্ট প্রবণতা: প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন বা ভোক্তা আচরণের পরিবর্তন নির্দিষ্ট শিল্পের অস্থিরতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ট্রেডিং কৌশলে অস্থিরতা পরিচালনা 

স্টক মার্কেটের অস্থিরতা ট্রেডারদের জন্য ঝুঁকি ও সুযোগ—উভয়ই নিয়ে আসতে পারে। আপনার ট্রেডিং পোর্টফোলিওতে অস্থিরতা পরিচালনা করার সময় বিবেচনা করার মতো কিছু কৌশল এখানে দেওয়া হলো:

  1. বৈচিত্র্যকরণ: ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন অ্যাসেট ক্লাসে আপনার ট্রেড ছড়িয়ে দিন।
  2. দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডিং: স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার বদলে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর মনোযোগ দিন।
  3. ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং: মার্কেট পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্রেড করুন।
  4. রিব্যালেন্সিং: আপনার পছন্দের ঝুঁকির মাত্রা বজায় রাখতে সময়ে সময়ে পোর্টফোলিও সমন্বয় করুন।
  5. পেশাদার পরামর্শ নিন: একজন আর্থিক উপদেষ্টা আপনার লক্ষ্য ও ঝুঁকি সহনশীলতার ভিত্তিতে ব্যক্তিগতৃত নির্দেশনা দিতে পারেন।

স্টক মার্কেটের অস্থিরতা ট্রেডিংয়ের একটি অনিবার্য দিক। অস্থিরতার কারণ ও প্রভাব বুঝতে পারলে আপনি সচেতন ট্রেডিং সিদ্ধান্ত নিতে এবং মার্কেটের ওঠানামা মোকাবিলার কৌশল তৈরি করতে পারবেন। 

মনে রাখবেন, অস্থিরতা আর ঝুঁকি এক জিনিস নয়, এবং দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডারদের স্বল্পমেয়াদি দামের ওঠানামার চেয়ে তাদের ট্রেডের মৌলিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। 

একটি বিনামূল্যের Deriv ডেমো অ্যাকাউন্ট-এর জন্য সাইন আপ করুন এবং ঝুঁকিমুক্তভাবে স্টক মার্কেটের অস্থিরতা পরিমাপের অনুশীলন করুন। ডেমো অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ফান্ড থাকে, তাই আপনি এই টিপসগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারেন কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। 

Join 3M+ global traders

Open an account in minutes and start trading the world's markets — forex, stocks, indices, and more.